ঈদে কী বাচ্চারাও পোলাও-মাংস খেয়েই থাকবে, নাকি ওর পছন্দের এই ৩টি রেসিপি ট্রাই করবেন?

আর মাত্র দু’দিন পরই ঈদুল আযহা। সব ধরণের প্রস্তুতি চলছে এই ঈদকে উদযাপনের জন্য। ঘরেরসাঁজ থেকে শুরু করে কিচেনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলছেন সবাই। যেহেতু কোরবানীর ঈদ, মাংস দিয়ে তৈরি নানারেসিপি নিয়েই জল্পনা-কল্পনা করছেন সবাই!এত ব্যস্ততার ভিতরে আপনার ছোট্ট সোনামণির খাবারের কথা কি কিছু ভেবেছেন? বড়দের জন্য তৈরি খাবার মশলা ও ঝালে এত বেশী পরিপুর্ণ থাকে যে সেটা বাচ্চারা খেলে পেটের পীড়া হতে পারে। বাচ্চাদের জন্য বেশী মাংস খাওয়াও পেটের জন্য ভালো না। খেতে চাইলেও ওকে পরিমাণ মতো খেতে দিতে হবে। তবে ঈদের দিন সব ধরণের ব্যস্ততার ভিতরেও যেন চট করে খেতে দেয়া যায় এমন কিছু খাবার আগেই বানিয়ে রাখতে পারেন। যেমন মিষ্টি ধরণের কোনো আইটেম ঈদের দিন সকালেই তৈরি করে ফেলতে পারেন তার জন্য। বাচ্চারা আবার সব ধরণের খাবার খেতে চায় না। এমন কিছুই তার জন্য বানাতে হবে যা দেখতে সুন্দর, যেন তার মনে হয় এটা তার জন্য স্পেশাল। এমন কিছু রেসিপি দেয়া হলো এখানে। ঈদের দিন এগুলো আপনার শিশুর খাবারের চাহিদা তো মেটাবেই সেই সাথে তার মনও ভালো হয়ে যাবে।
সাসলিক
কাঠিতে গেঁথে এক ধরণের কাবাবের মতো বানানো যায় গরুর/খাসীর মাংস দিয়ে। একেই সাসলিক বলে। মুরগী দিয়েও বানানো যায় এটা। এর সাথে কিছু সবজিও দেয়া যায়। কাঠিতে গাঁথা থাকে বলে এটা বাচ্চারা খুব পছন্দ করে।
বিফ/মাটন সাসলিক বানাতে যা যা লাগবে
·
হাড় ছাড়া গরুর/খাসীর পেছনের রানের মাংস এক কেজি
·
লবণ দুই থেকে আড়াই চা-চামচ
·
চিনি দুই চা-চামচ
·
সরিষাগুঁড়া উপচে পড়া এক চা চামচ
·
গোলমরিচের গুঁড়া এক চিমটি
·
আদা বাটা দেড় চা-চামচ
·
রসুন বাটা দেড় চা-চামচ
·
মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ
·
দই আধা কাপ
·
অয়েস্টার সস আড়াই টেবিল চামচ
·
সরিষার তেল আধা কাপ
·
টমেটো বাটা আধা কাপ
·
পেঁপে বাটা দুই টেবিল চামচ
·
গরম মশলা গুঁড়া দেড় চা-চামচ
·
জায়ফল টেলে ফাঁকি করা সিকি চামচ
·
জয়ত্রী টেলে ফাঁকি করা আধা চা-চামচ
·
লবঙ্গ টেলে গুঁড়া করা সিকি চা-চামচ
·
টমেটো
·
পেঁয়াজ
·
ক্যাপসিকাম পরিমাণ মতো
·
লম্বা বা মাঝারি কাঠি পরিমাণ অনুযায়ী।
কাঠিটি ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
প্রস্তুত প্রণালি
মাংস ছোট ছোট টুকরো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে পাটায় হালকা ছেঁচে নিন। বাটিতে আধা কাপ তেলের সঙ্গে টমেটো, পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম ছাড়া অন্য সব উপকরণ একত্রে মিশিয়ে মাংসের সঙ্গে মাখিয়ে ১২ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। দুই ঘণ্টা বাইরে মেরিনেটের পর ১০ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। ক্যাপসিকাম ও টমেটো ধুয়ে বিচি ফেলে চৌকো করে কেটে নিন। পেঁয়াজ ছিলে ধুয়ে লম্বায় চার ভাগ করুন। এবারে একেকটি করে কাঠি নিয়ে প্রথমে মাংসের একটি টুকরো, তারপর টমেটো, পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম গেঁথে এভাবে পরপর আরও একবার গেঁথে শেষে আরও একটি মাংসের টুকরো গাঁথুন। ননস্টিক ফ্রাইপ্যানে ১ টেবিল চামচ করে সরষের তেল দিয়ে চারটি করে কাঠি একবারে দিয়ে মৃদু আঁচে রাখুন। ঢেকে দেবেন। মাঝেমধ্যে ঢাকনা খুলে কাঠি ঘুরিয়েদেবেন। মাংস টমেটো, পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম থেকে পানি ছাড়বে। সেদ্ধ হয়ে পানি টেনে হালকা লাল হলে নামিয়ে একটি ট্রেতে রাখুন। সব কটি ভাজা হয়ে গেলে আগুনে ঝলসে নিন। একটু পোড়া পোড়া হলে খেতে ভালো লাগবে। একটি প্লেটে সাজিয়ে সালাদ বা সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।
ফ্রুট কাস্টার্ড
ঈদের দিন নানা রকম সেমাই পায়েশ জর্দা ইত্যাদি মিষ্টান্ন তো তৈরি করাই হয়। বাচ্চার জন্য বানাতে পারেন ফ্রুট কাস্টার্ড। দুধের পুষ্টির সাথে ফলের স্বাদ পুরোটাই পাবে এতে সে।
ফ্রুট কাস্টার্ড বানাতে যা যা লাগবে
·
দুধ এক লিটার
·
ডিমের কুসুম দুইটি
·
কাস্টার্ড পাউডার তিন টেবিল চামচ
·
চিনি স্বাদমতো
·
কিসমিস দুই টেবিল চামচ
·
কাঠ বাদাম দুই টেবিল চামচ
·
ফল(কলা, আম, আপেল, আঙুর, চেরিফল, ডালিম/আনার, স্ট্রবেরি)কিউবকরে কাটা প্রায় ২ কাপ।
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে ডিমের কুসুম দুইটা একটি বাটিতে নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন এখন কাস্টার্ড পাউডার দিয়ে ভালো করে মিশান এবং নরম মিশ্রণ তৈরি করুন। একটি পাত্রে দুধ নিন অল্প আচেঁ জাল দিন। দুধ একটু ঘন হয়ে এলে চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। ডিম এবং কাস্টার্ড এর মিশ্রনটি দুধের সাথে ঢেলে দিন এবং নাড়তে থাকুন।
মনে রাখবেন মিশ্রনটি একদম অল্প আচে রান্না করতে হবে এবং বিরতিহীনভাবে নাড়তে হবে তা না হলে কাস্টার্ড লেগে যাবে। কাস্টার্ড হালকা ফুটে উঠলে নামিয়ে ফেলুন। এরপর ঠাণ্ডা হলে ফ্রিজে রাখুন। খাবার সময় আপনার পছন্দ মত ফল দিন এবং পরিবেশন করুন।
নাগেটস
নাগেট বাচ্চাদের প্রিয় খাবারের একটি হার্ট শেপের নাগেট বাচ্চাদের খাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। আনকমন যেকোনো কিছুই বাচ্চাদের মন কাড়ে। গরুর/খাসীর মাংস দিয়ে নাগেটের রেসিপিটি দেখে নিতে পারেন।
বিফ/মাটন নাগেট তৈরি করতে যা যা লাগবেঃ
·
বিফ/মাটন কিমা দুই কাপ
·
ময়দা দুই টেবিল চামচ
·
কর্ণফ্লাওয়ার দুই টেবিল চামচ
·
সয়াসস দুই টেবিল চামচ
·
বেকিং পাউডার দুই টেবিল চামচ
·
কাঁচামরিচ (মিহি কুচি) এক চা চামচ
·
পুদিনা পাতা কুচি দুই টেবিল চামচ
·
পেঁয়াজ কুচি এক টেবিল চামচ
·
গোলমরিচ গুড়া এক চিমটি
·
ডিম চারটি
·
ব্রেডক্রাম দুই কাপ
·
তেল পরিমাণমতো (ডুবো তেলে ভাজার জন্য)
·
লবণ ও টেস্টিং সল্ট পরিমান মতো
প্রস্তুত প্রণালি
কিমার সাথে ডিমের সাদা অংশ, ব্রেডক্রাম ও তেল বাদে বাকি সব উপকরণ ভালভাবে মেখে একটু মোটা করে রুটির মতো বানাতে হবে। এরপর পছন্দমতো কেটে তা দিয়ে হার্ট শেপের নাগেট বানিয়ে ময়দা মিশিয়ে ডিমের সাদা অংশে চুবিয়ে ব্রেডক্রাম লাগিয়ে ডুবোতেলে ভাজতে হবে। ভাজলে নাগেট লাল হয়ে আসবে। তখন নামিয়ে টমেটো সস দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
পরিশিষ্টঃ
ঈদের সময়ে ঘর গোছানো আর গেস্টদের জন্য রান্নার চিন্তা করতে গিয়ে আমরা অনেক সময়েই বাচ্চাদের কথা ভুলেই যাই। তিনবেলার খাবারের মাঝখানেও কিন্তু বাচ্চাদের খিদে পায়, তখন সেই একঘেয়ে শেমাই-ফিরনি কিংবা রুটি-মাংস বাচ্চারা অনেক সময়েই খেতে চায়না। এই আর্টিকেলের রেসিপিগুলো ওর অনেক ভাল লাগবে।
খাবারের পাশাপাশি খেয়াল রাখুন বাচ্চা যথেষ্ট পরিমাণ পানি খাচ্ছে কিনা। অতিরিক্ত লাফা-লাফি বা সারাদিন রোদে বসে মাংস কাটা দেখতে গিয়েও বাচ্চাদের ডিহাইড্রেশন হতে পারে। এসব দিকেই খেয়াল রাখবেন।
আনন্দে এবং নিরাপদে কাটুক আপনার এবং আপনার ফ্যামিলির সময়টা।
ঈদ মোবারক!
আমাদের কল সেন্টারে ফোন করে রবি থেকে বৃহস্পতিবার (সরকারী ছুটির দিন বাদে) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সুপারমম এর ডাক্তারদের সাথে সরাসরি পরামর্শ করতে পারেন মা ও শিশু বিষয়ক যেকোন সমস্যা নিয়ে। আমাদের নাম্বার ০৯৬১২-২২২-৩৩৩
সর্বাধিক জনপ্রিয় আর্টিকেল
-
বাচ্চার প্রথম সলিড খাবারের পুষ্টিগুণ আর স্বাদ নিয়ে টেনশন?এই সহজ ৫টি রেসিপি ওর জন্য পারফেক্ট!
-
ঈদে কী বাচ্চারাও পোলাও-মাংস খেয়েই থাকবে, নাকি ওর পছন্দের এই ৩টি রেসিপি ট্রাই করবেন?
-
জেনে নিন বাচ্চার প্রথম বছরে পুষ্টি উপাদান কি কি দরকার
-
আপনার বেবি কি যথেষ্ট পরিমাণ বুকের দুধ পাচ্ছে? বুঝে নিন সহজেই
-
বাচ্চাকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করা নিয়ে টেনশন? এই ৬টি টিপস আপনার জন্যই!